শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
যুগ যুগ ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের আদিবাসীদের মধ্যে মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসা ফলটিকে বাংলাদেশে ননি নামে চিহ্নিত করা হলেও মূলত এর ইংরেজি নাম হচ্ছে সাইট্রিফেলিয়া আর বৈজ্ঞানিক নাম ‘গ্রেভিওলা’। ভিটামিন এ, সি, ই, বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, প্যান্টোথেনিক এসিড, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, জিংক, কপার ও মিনারেলসহ প্রায় ১৫০টির মতো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ননি ফলের রস নিয়মিত সেবন করলে ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
এছাড়া ননি ফলের রস সেবন করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন, ব্যথা উপশমসহ নানান জটিল রোগে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ঔষুধিগুনে সমৃদ্ধ বিদেশী ফল সাইট্রিফেলিয়া (ননি) ফলের চারা ও গাছ থেকে ফল উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা গ্রামের বাসিন্দা হাবিব সরদার।
ইতোমধ্যে তার বাগানে রোপিত ১১টি গাছের মধ্যে সাতটি গাছে চলতি বছর ননি ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে তিনি দুর্লভ এ ফলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। উদ্যোক্তা হাবিব সরদার জানান, চার বছর পূর্বে একটি দূর্ঘটনায় তার পা ভেঙ্গে যায়। বিভিন্ন চিকিৎসার পর পা ভাল হলেও তিনি পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করেন। পরবর্তীতে এক কবিরাজের স্মরনাপন্ন হওয়ার পর তিনি (কবিরাজ) ব্যাথা নিরাময়ের জন্য পেইন কিলারখ্যাত ননি ফলের জুস পান করার পরামর্শ দেন।
কিন্তু দূর্লভ ওই ফল বরিশাল কিংবা ঢাকার কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর পূর্বে তিনি মালয়েশিয়া থেকে একটি পাকা ননি ফল সংগ্রহ করিয়েছেন। সেই ফলের বীজ নিজবাড়ির আঙিনায় রোপণ করে তিনি ৪৭টি চারা উৎপাদন করেন। কিন্তু সঠিক পরিচর্যার অভাবে তার ২৪টি চারা নষ্ট হয়ে যায়। বাকি ২৩টি চারার মধ্যে তার বাগানে এখন ১১টি চারা রয়েছে।
তিন বছরের ব্যবধানে সাতটি গাছে চলতি বছর ননি ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। হাবিব সরদার আরও জানান, একটি হারবাল কোম্পানির সাথে তার কথা হয়েছে। সব ফল তারা এখান থেকে প্রক্রিয়াজাত করে নেবেন। এবছরই ফলের বিচি রেখে তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করারও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি ৫০০ চারা রোপন করা যায় এমন প্লটও তৈরি করেছেন।
কৃষি বিষয়ে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা পেলে এবং দেশের আবহাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ননি ফল চাষ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলেও তিনি (হাবিব সরদার) উল্লেখ করেন। পুষ্টিবিদ ইলিয়াস বিন শওকত জানান, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ননি ফল নিয়ে গবেষণা চলছে। দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে প্রাচীণ পলিনেশিয়া, চীন, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের আদিবাসীদের মধ্যে অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ঔষুধ হিসেবে ননি ফল ব্যবহার হয়ে আসছে। আধুনিক যুগেও এ ফলের রস মানব শরীরে বিভিন্ন ধরনের উন্নতির প্রাণ জুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় ননি ফলের বাগান থাকে সেখানে কোনো রোগ সংক্রমণ ছড়ায়না। গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জন্য দুর্লভ এ ননি ফল চাষের জন্য এখনও তাদের কাছে কেউ পরামর্শ নিতে আসেননি। খোঁজখবর নিয়ে ননি ফল চাষী হাবিব সরদারকে পরামর্শ ও পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করা হবে।